উদারীকরণ
নতুন রং করা সাদা, কলেজ অফিস হাসপাতালে
সিঁড়ির দেয়ালগুলি দেখে সেই কিশোরীদের
মুখ
মনে পড়ে যেতে পারে যারা অচিরেই
নির্মম হুড়কোয় বিদীর্ণ হবে।
এখন মুক্ত বিশ্ব, বুলাদি বোঝেন
পানের দোকানগুলি নিষিদ্ধ করা হাস্যকর
এবং কঠিন।
তার চেয়ে সহজ—
বরাত দিয়ে সোনাগাছি থেকে
প্রচুর পিক্-দান আনা হোক
রাখা হোক গোলাপ-টবের পাশে পাশে।
কম বয়সে
আমরা একটি যাত্রাদল করেছিলাম
পার্টিতে
ঢুকবার পর সে-দল ভেঙে গেল,
তারাপদ
বিবেকের গান গাইত
পার্টির
লোকজন হাটের মাঝখানে তার ছেলের
মাথা ফাটিয়ে
দিয়েছে
বাধা দিতে
পারিনি,
পূর্ণেন্দুবাবুকে
ঘায়ের মত ঘৃণা করি
তবু ঠিক
পালে মিশে গিয়ে
তার সঙ্গে
মিছিলেও কদম মেলাই।
এখন বছরে
একবার বাইরে থেকে যাত্রাদল আসে গ্রামে
ভাড়া করা
পালা শুনি,
কথায় বলে—
কেনা চালের
ভাতে চাষিদের পেট ভরে না।
সাতদিন
পদার্থ বিজ্ঞান।
ঘেউ ঘেউ
করতে করতে বনবাদাড়ে এক চক্কর ঘুরে আসবার পর
মাল-বাহক
গাড়ির জোয়ালে কাঁধ দিতে হল। ফিরবার পথে
ঝামেলা।
অন্য একটা পাঁঠার সঙ্গে হয়ে গেল এক হাত। তারপর
ঘাস চিবোতে
চিবোতে পুকুরের দিকে গেলাম। জল খেয়ে ফিরছি,
সামনেই—উহ্,
কী ভয়ংকর! আলের পাশে মুখ লুকিয়েছি।
ভয় সরে
যাবার পর গুচ্ছ গুচ্ছ ধান বইছিলাম লম্বা সুড়ঙ্গ বেয়ে
ভাঁড়ারের
দিকে।
অর্ণবদা’
কবিতা চাইলেন। আমি হাতের ধান ফেলে, ঠোঁটের
মাছ ফেলে,
ঝগড়া ফেলে, ঘেউ ঘেউ ফেলে, হারিয়ে যাওয়া ডানা
দুটি খুঁজে
বার করে ঊর্দ্ধশ্বাসে উড়তে উড়তে ইউক্যালিপটাসের
মগডালে উঠে
এলাম। এখন মুদ্রাদোষে ডানা দুটি আবার হারিয়ে
ফেলার আগে
অবধি নিজের সাধ্যমত এই নিচুর নীলে খানিকক্ষণ
উড়ান দিতে
পারব।
(কবিতাগুলি সংকলিত হয়েছিল "মাটির থিওরি" কাব্যগ্রন্থে, ২০০৯ সালে। তারও আগে প্রথম কবিতাটি প্রকাশিত হয়েছিল "কবিতা সীমান্ত" পত্রিকায় আর তৃতীয়টি প্রকাশিত হয়েছিল অর্ণব পণ্ডা সম্পাদিত "রৌদ্র-ছায়া"তে। দ্বিতীয়টির কথা মনে নেই।)



No comments:
Post a Comment